আর্কিটেকচার কি ও কেন
স্থাপত্য হলো দালান এবং অন্যান্য বাস্তব
কাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা, নকশা এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া ও কাজ।
স্থাপত্য দালানের মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে, যা সাংস্কৃতিক প্রতীক
এবং শিল্পকর্ম হিসেবে অনুভূত হয়।
এটি ভবন ও অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ শৈলী ও
নির্মাণ কৌশল। এটি শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিদ্যা, from the macro-level
(urban design,landscape architecture) to the micro-level (construction
details and furniture)

আর্কিটেকচার
কিন্তু প্রকৌশল নয়। কিন্তু জানা ও শেখার পরিধিতে যে কোন মানুষের সাথে
পাল্লা দিতে পারে একজন আর্কিটেক্ট। ধরা যাক একটা স্কুল ডিজাইন করতে হবে।
বাচ্চা থেকে টিনএজারদের মানসিকতা, শিক্ষকের শিক্ষাদানের উপায় থেকে শুরু করে
দেশের ও বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যেতে হয়। একজন
আর্কিটেকচার ছাত্রের জন্যে জীবন, প্রকৃতি আর মানুষ হল পড়ার বিষয়। এর সাথে
সম্পর্কিত যা যা হতে পারে সবই এখানে পড়ানো হয়। ডিজাইন করা আর তাকে ডেভেলপ
করা এটাই মূল কাজ। ডিজাইন যে কোন বিষয় এর হতে পারে। ৫ বছর প্রায় ২০০
ক্রেডিট এর মাঝে ইতিহাস থেকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল থেকে
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অনেক কোর্স পড়তে হয়। আবার ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব
সাবজেক্ট এর বৈচিত্র যে কাউকে মুগ্ধ করে দেবে। 

ছবি: জাতীয় সংসদ ভবন

ছবি: পোরশে মিউজিয়াম, স্টুটগার্ট, জার্মানি
আর্কিটেক্ট ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে পার্থক্য
তাদের কাজকর্ম একে অপরকে ওভারল্যাপ করলেও কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
- Architecture focuses more on the spatial functionality and aesthetics of the development work and is more concerned with the artistry, look, feel and functionality of the design.
- Civil Engineering concentrates on the structural elements of the design, making certain that the structure can endure normal and extreme conditions.

একজন আর্কিটেক্ট এর দায়িত্ব
- নকশা, কাঠামোর স্পেসিফিকেশনস , উপকরণ, রং, যন্ত্রপাতি, আনুমানিক খরচ, এবং নির্মাণ সময় সম্প্ররকিত তথ্য প্রস্তুত
- কাঠামোর কার্যকরী এবং স্থানিক প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে ক্লায়েন্ট সঙ্গে যোগাযোগ করণ
- নকশা ও স্পেসিফিকেশন নথি প্রস্তুতে জড়িত কর্মীদের তত্বাবধায়ন
- প্রকল্পের লেআউট পরিকল্পনা
বিল্ডিং ঠিকাদাদের জন্য চুক্তি নথি প্রস্তুত - স্কেল অঙ্কন তৈরী
- ইউনিফাইড নকশায় ইঞ্জিনিয়ারিং উপাদান সংযুক্তকরণ
- নির্মানের সময় ডিজাইনের সঠিক বাস্তবায়নের নিমিত্তে নিয়মিত নির্মাণ কাজের সাইট পর্যবেক্ষণ
- নির্মাণ চুক্তি তদারকি করা
- নির্মাণ চুক্তির দর প্রাপ্তির জন্য ক্লায়েন্ট এর পক্ষে কাজ করা
- অপারেটিং এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর ম্যানুয়াল, গবেষণা, এবং রিপোর্ট তৈরী
ক্যারিয়ার সম্ভাবনা
ক্রমবর্ধমান
চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অপার সম্ভাবনাময় এ ক্ষেত্রটি দ্রতগতিতে প্রসারিত
হচ্ছে। প্রথম দিকে হাতে গোনা কিছু কোম্পানি ঢাকাকেন্দ্রিক বিল্ডিং ডিজাইনের
ক্ষেত্রে আর্কিটেকচারাল বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করলেও বর্তমানে ঢাকা ও এর
বাইরের বড় শহরগুলোতেও বিল্ডিং এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে
আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের সহায়তা নিতে আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাম্প্রতিক
সময়ে বাণিজ্যিক মাত্রা ছাড়িয়ে ক্রেতার সংস্থাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদা,
দুর্যোগ মোকাবিলায় ভবনের দৃঢ়তা, দীর্ঘস্থায়িত্ব, দর্শনীয় নান্দনিকতা
প্রভৃতি বিষয় দ্রুত প্রসারমান আর্কিটেক্ট ক্ষেত্রটিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে
পূরণ করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
বাইরের দেশে সুযোগ কেমন
আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলীয়া, জার্মানিসহ প্রায় সকল উন্নত দেশে আর্কিটেক্টদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কোথায় পড়া যেতে পারে
আর্কিটেকচার
বিষয়ে দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো, বাংলাদেশ প্রকৌশল
বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
ইত্যাদি।
![]() |
কেমন যোগ্যতা চাই
পাঁচ বছর
মেয়াদি বিএসসি কোর্সে ভর্তি হতে হলে একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই বিজ্ঞান বিষয়ে
পড়াশোনা থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে
তারা এই বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে
ভর্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়ম ভিন্ন। তাই যার যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ সেই
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিস্তারিত তথ্যাবলী জেনে নিতে হবে।
স্থাপত্যে নকশা এবং গঠনমূলক আকার, স্থান এবং
পরিবেশগত কার্যকরী প্রতিফলন, প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও নান্দনিক বিবেচ্য
বিষয় পরিকল্পনা বিবেচনায় আনতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল হস্তকর্ম,
উপকরণের সমন্বয়, প্রযুক্তি এবং আলো ও ছায়ার। প্রায়শই, এতে পরস্পরবিরোধী
প্রয়োজনীয়তা সমাধান করা আবশ্যক। সেজন্য দরকার অসীম ইচ্ছা, পরিশ্রমী
মানসিকতা, Ambition, fitness আর নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা। ভাল
আকতে পারা ভাল। না হলে খারাপ তাও না। তবে অল্পতে তুষ্ট না হওয়া, মূলের বা
সাধারণের বাইরে চিন্তা করা এবং কখনো হার না মানার মত মন দরকার। শিক্ষার
প্রসেসটা খুব দ্রুত না। আবার অল্প সময়ে অমানুষিক পরিমান চাপ নিতেও হয়।
সুতরাং যা সবচেয়ে আগে চাই তা হল “ আমি আর্কিটেকচারই পড়তে চাই” এই ইচ্ছা।
রেফারেন্স
- https://m.facebook.com/udvash/posts/10152103536236081
- http://www.godfreyhoffman.com/Civil-Engineering-Blog/bid/303244/What-is-the-Difference-between-Civil-Engineering-and-Architecture
- https://onlinearchitecture.co.uk/file/2015/10/modern-architecture-drawing-design1.jpg
- http://www.prospects.ac.uk/architect_job_description.htm
- http://job-descriptions.careerplanner.com/Architects-Except-Landscape-and-Naval.ccfmfm
- https://eduadvisor.my/wp-content/uploads/2015/05/


0 Comments