ভালো কিছু অর্জন করতে চাইলেে এভাবে চেষ্টা করুন


যোগ্যতা বা ট্যালেন্ট  দিয়ে জীবনে কিছু একটা করে ফেলবো- এমনটা আশা করে কোন লাভ নাই বর্তমানে। কারণ দুনিয়াতে যোগ্যতা বা ট্যালেন্ট  দিয়ে সবাসরি কাউকে বিচার করা হয় না। বিচার করা হয় অর্জন দিয়ে। আপনার চারপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন- একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের আর্থিক, সামাজিক, পারিবারিক স্ট্যাটাসের ডিফারেন্স তৈরি হয় তাদের অর্জনের ডিফারেন্স দিয়ে  যোগ্যতা বা ট্যালেন্ট দিয়ে নয়। এইটাই বাস্তবতা। 
এইজন্যই চাকরি দেয়ার  সময় চাকরিদাতা কোয়ালিটি দেখার আগে কোয়ালিফিকেশন দেখে।  ক্লাসে শিক্ষক  “ ম্যাথ বুঝতে পারার উপর মার্কস না দিয়ে, ম্যাথ লিখতে পারার উপর মার্কস দেয়”।
তাই বলতে পারি, অর্জনই হচ্ছে গর্জন। যার জীবনে অর্জন যত বেশি, সে তত বেশি এগিয়ে যায় সামনে। আর জীবনের অর্জন যে যতবেশি উপলব্ধি করতে পারবে, সে তত বেশি সুখি হবে। তবে কারো জীবনের অর্জনের সংখ্যা বাড়ানো খুব কঠিন কিছু না। বরং সিম্পল চারটা ধাপ ফলো করলে যে কেউ জীবনে অনেক কিছু অর্জন করতে পারবে।
প্রথম ধাপ: যে কাজটা আপনার শুরু করি করি বলে শুরু করা হয়ে উঠতেছে না। সেটা শুরু করে দিতে হবে। কনফিউশন, ভয়, আর মানুষের কাছ থেকে গাইডলাইন পাওয়ার জন্য যতদিন অপেক্ষা করবেন, জীবনে কিছু একটা করার সম্ভাবনা তত বেশি কমবে। বিজনেস শুরু না করে, বিজনেস আইডিয়া নিয়ে যত বেশি দিন চিন্তা করবেন, একই আইডিয়া নিয়ে অন্য কেউ বিজনেস শুরু করার চান্স তত বেশি বাড়বে। সো, প্ল্যান বানাতে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। পড়ার রুটিন বানাতে গিয়ে, পরীক্ষার পড়া বন্ধ করে রেখেদিবেন না। যেটা আসল কাজ, সেটা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করে দিন।
দ্বিতীয় ধাপ : যে কাজটা আপনি শুরু করেছেন সেই কাজটি শেষ করতে হবে আপনাকেই। কবিতা অর্ধেক লিখে কিন্তু আপনি কবি হতে পারবেন না। শুধু A মাইনর আর G মাইনর শিখে গিটার বাদক হতে পারবা না। ১০০ পাতা থিসিসের ১০ পাতা লিখলেই ডিগ্রি দিবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ করতে হবে।সঠিক ভাবে শেষ করতে হবে। ভালো না লাগলে, নিজের উপর জোর করে হলেও কাজটি ফিনিশ করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ:  আজকে যে কাজটা করছেন কালকেও কিন্তু সেই কাজটাই করতে হবে। কালকের চাইতে ভালো হোক বা খারাপ হোক, সেই একই কাজ করতে হবে। শুধু তিন-চারটা গান সুর করে মিউজিশিয়ান হতে পাবেন কি?? -কখনোই না। চারদিন ইট গেঁথে বিল্ডিং বানানো যায় কি ??? -যায় না। দুই সপ্তাহ ক্রিকেট খেলে ন্যাশনাল টিমে চান্স পাওয়া যায় কি?? - যায় না। তাইতো কাজটার পিছনে লেগে থাকতে হবে। যে যেই কাজটি করেন সেই কাজের পিছনে।
 আর লেগে থাকলেই কিন্তু একসময় উন্নতি হবে। দক্ষতা আসবে। নতুন নতুন কৌশল আপনার নিজের ভিতর থেকেই উদ্ভব হবে। হতাশ হয়ে যদি ছেড়ে দেন তাহলে যে কয়দিন ট্রাই করছেন, সেই কয়দিন সময় অপচয় ছাড়া আর কিছু না। তাই কাজটি ভালো হচ্ছে, না খারাপ হচ্ছে। ভবিষ্যতে লাভ হবে কি, হবে না- বিচার না করে  লেগে থাকোন। সফলতা আসবেই।
চতুর্থ ধাপ:- শো-অফ করতে হবে মানুষের সামনে। ওভার কনফিডেন্স দেখাতে হবে। তোমার যোগ্যতা যতটুকু, তার চাইতে বাড়িয়ে বলতে হবে। কারণ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে ফুলের গন্ধ বের হবে, পিছনে হট মডেল ঘুরবে না দেখলে আমরা টুথপেস্ট কিনি না। ৩০ হাজার টাকা দিয়ে যে বিয়ে করে ফেলা যায়, সেই বিয়েতে ৩০ লাখ খরচ করে শো-অফ না করলে প্রেস্টিজ আসে না। স্পিট খেলেই শরিলে এনাজি আসে না দেখলে কিনি না।আর কত কত বিজ্ঞাপন আছে । আমরা প্রতিদিন দেখে থাকি।
তাই আপনার নিজের ঢোল নিজে পিটাতে গিয়ে একটু শো-অফ করে দিবেন। হালকা বাড়িয়ে বলে নিজের যোগ্যতার মার্কেটিং করবেন। অতটুকু বাড়িয়ে বলবেন, যতটুকু এক্সট্রা পরিশ্রম করে, দুই-তিন সপ্তাহ খাটা-খাটুনি করে কভার করে দিতে পারবেন। অর্জনের প্রসেসে ঢুকে পড়ুন। সম্মান, সম্পদ, সুখ সব হাতের মুঠোয় চলে আসবে। 

Post a Comment

0 Comments