সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত শত শত স্টার্টআপ বিজনেসের সূচনা হয়ে থাকে। প্রতিটি স্টার্টআপই অসাধারণ সব আইডিয়া ও পণ্য নিয়ে পথচলা শুরু করে থাকে। কিন্তু দিনশেষে খুব কম সংখ্যক স্টার্টআপ সফলতার মুখ দেখে। কারণ একটি স্টার্টআপ বিজনেস প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিভিন্ন কঠিন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যে চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে খুব কম সংখ্যক স্টার্টআপই লড়াই করে টিকে থাকতে পারে। আসুন জেনে নিই, স্টার্টআপ বিজনেসে সাধারণত যে চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হতে হয়।
১. পর্যান্ত মূলধনের অভাব
টাকা, সর্বপ্রথম আপনার প্রয়োজন এটিই। অর্থ ছাড়া কোনো স্টার্টআপ বিজনেস কল্পনাও করা সম্ভব না। তাই অনেক সময় অনেক ভালো আইডিয়া থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে অনেক স্টার্টআপ বিজনেস বেশি দূর এগোতে পারে না। কারণ একটি স্টার্টআপ বিজনেসের শুরুতে অফিসের জায়গা, পণ্য উৎপাদন, মার্কেটিং, কর্মীদের বেতন ইত্যাদি খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, যা কোনো বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ব্যতীত সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার অধিকাংশ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানই ফলাফল ব্যতীত শুধুমাত্র আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করতে চায় না।
২. পরিকল্পনার অভাব
অনেক ভালো আইডিয়া ও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও আপনার স্টার্টআপ বিজনেসটি খুব অল্প সময়ের ধ্বসে যেতে পারে, যদি আপনার কাছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকে। যেখানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কোনো ধরনের কাজেই সফল হওয়া সম্ভব না সেখানে একটি স্টার্টআপ বিজনেসে সফলতা পাওয়া অসম্ভব। তাই একটি স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগেই বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গবেষণা ও বিবেচনা করে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনার ছক আকঁতে হবে, যা অধিকাংশ স্টার্টআপ বিজনেসেই দেখা যায় না। ফলে মাঝপথে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়।
৩. সঠিক কর্মী নিয়োগ
একটি বিজনেসে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয় কর্মীদের দ্বারা। কর্মীরা একটি স্টার্টআপ বিজনেসকে শুধু বাঁচিয়েই রাখে না, তারা বিজনেসের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিজনেসের ধরন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেওয়া। কারণ দক্ষ কর্মী ব্যতীত ভালো আইডিয়া ও পরিকল্পনা থাকলেও আপনি কোনো কাজই পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না, যা আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের জন্য হুমকিস্বরূপ। আর এই সমস্যাটিতেই অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি ভুগে থাকে। কারণ বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মীর সংখ্যা অনেক কম।
৪. সময় ব্যবস্থাপনা
আমাদের প্রত্যেকের জীবনে ‘সময়’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ সময়কে কোনো কিছুর বিনিময়ের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। তাই প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে সময়ের যর্থাথ মূল্যায়ন করা আবশ্যক। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করতে না পারলে আপনার পণ্য উৎপাদন খরচ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি আপনার গ্রাহকদের কাছেও আপনি আপনার কোম্পানির বিশ্বস্ততা এবং গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
এছাড়াও আপনাকে বুঝতে হবে, কোন সময়ে কোন ধরনের কাস্টমারদের কাছে আপনি আপনার সেবা পৌঁছে দেবেন। মূলত সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে না পারার কারণেই অনেক স্টার্টআপ বিজনেস দিনশেষে ব্যর্থ হয়ে ঝরে পড়ে।
৫. দুর্বল সহ-প্রতিষ্ঠাতা
একটি স্টার্টআপ বিজনেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাগণ বিজনেসের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা নতুন নতুন সব আইডিয়া, সমস্যার সমাধান, বিজনেস পরিচালনা সহ আরো বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। এটা তাদের দায়িত্ব। কারণ সবকিছু আপনার একার দ্বারা পরিচালনা করা সম্ভব না। কিন্তু তারা যদি বিজনেস পরিচালনায় ব্যর্থ হন, যাবতীয় কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তারা যদি যথেষ্ট দক্ষ না হয়ে থাকে, তখন কী করবেন?
এটা নিশ্চয়ই একটি স্টার্টআপ বিজনেসের জন্য ভালো সংবাদ নয়। ঠিক এ সমস্যার কারণেই স্টার্টআপ বিজনেসগুলোকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
৬. সঠিক পথপ্রদর্শকের অভাব
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে চলার পথে যেমন একজন যোগ্য পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন হয়, যিনি আমাদের সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেন ঠিক তেমনি একটি স্টার্টআপ বিজনেস পরিচালনার ক্ষেত্রেও একজন সঠিক পথপ্রদর্শক প্রয়োজন। যিনি তার অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিভিন্ন বিজনেস সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ দিবেন। কিন্তু অধিকাংশ স্টার্টআপ বিজনেসের অসাধারণ পণ্য বা আইডিয়া থাকলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাবে স্টার্টআপগুলো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না।
৭. প্রতিদ্বন্দ্বী
বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা অনেক কঠিন। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সব আইডিয়া নিয়ে নতুন নতুন বিভিন্ন স্টার্টআপ বিজনেস প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলে হলে আপনাকেও নতুন নতুন সব আইডিয়া বা পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। সময়ের উপযোগী এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করতে হবে, যা সত্যিই অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সময়ের সাথে নিজেদের আইডিয়া বা সেবার মান বৃদ্ধি না করার কারণে শত শত স্টার্টআপ বিজনেস আজ হারিয়ে গেছে।
৮. দুর্বল ব্যবস্থাপনা
আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের মূলধন, আইডিয়া, পণ্য, যোগ্য কর্মী সব থাকা সত্ত্বেও যদি আপনি আপনার বিজনেস ব্যবস্থাপনার ভিত্তি দুর্বল থাকে তাহলে আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের অগ্রগতি কখনো সম্ভব না। তাই একটি স্টার্টআপ বিজনেসের শুরু থেকে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই বিজনেসে সফলতা পাওয়া সম্ভব। তবে স্টার্টআপ বিজনেসের প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
Written by Farjul Islam Ovoy

0 Comments