জীবন ব্যবসার মতো, অথবা ব্যবসা জীবনের মতো, অর্থাৎ দুটোই দীর্ঘমেয়াদী যাত্রা। ভবিষ্যতে সুখ, সমৃদ্ধি এবং শান্তি অর্জন করতে হলে দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ এবং জীবনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হয়। ভবিষ্যতের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ, সম্ভাব্য সব বিকল্প উপায় বিশ্লেষণ এবং নিজের সঠিক গন্তব্য নির্ধারণ করতে হয়। হতে হয় কৌশলগত চিন্তাবিদ।
আপনি চারপাশের জগত নিয়ে কী ভাবেন, সব কিছু কীভাবে মূল্যায়ন করেন, অন্যকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন, এবং নিজের ও পারিপার্শ্বিক সবকিছুর জন্য কেমন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চান, তার কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হয়। আপনি কীভাবে এই কর্মকৌশল নির্ধারণ করবেন এবং তা বাস্তবায়ন করবেন তা অনুধাবন করার দক্ষতাই হলো স্ট্র্যাটেজিক
থিংকিং বা কৌশলগত চিন্তা।
সাফল্য এবং অর্জন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুটো একই রেখায় কাজ করে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ১০ হাজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ৯৭ শতাংশ তাদের কোম্পানি বা সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাফল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
নেতৃত্তের আচরণ হিসাবে কৌশলগত চিন্তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কৌশলগত চিন্তাবিদরা সব সময় তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন। তাদের কৃতকর্ম এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ ফলাফল আগেই অনুধাবন করতে পারেন, এবং লক্ষ্য অর্জনের সঠিক পথ আবিষ্কার করতে পারেন।
চিন্তাবিদদের কৌশলগত
বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। ভবিষ্যৎদ্রষ্টা
এমন চিন্তাবিদদের
অনন্য সাধারণ এই বৈশিষ্ট্যগুলো
নিয়ে এই নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
দৃষ্টিভঙ্গি
কৌশলগত চিন্তাবিদরা
দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে থাকেন। সব কিছুর ব্যাপারে তারা স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে পারেন। মানব মস্তিষ্কের বাঁদিকের যৌক্তিক এবং ডান দিকের সৃজনশীল উভয় অংশের যথাযথ ব্যবহার করে যেকোনো বিষয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। স্পষ্ট, ইতিবাচক এবং বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত রাখে এবং অন্যদেরও কাজের প্রতি মনোযোগী ও আকৃষ্ট করে।
দৃষ্টিভঙ্গি যেকোনো কাজের সাফল্যের প্রধান নিয়ামক। তাই কৌশলগত চিন্তাবিদরা সব বিষয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি
সম্পন্ন হওয়ায় সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন এবং তা বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সুতরাং ভবিষ্যতের সাফল নেতা হয়ে উঠতে হলে আপনার মধ্যেও গভীর দূরদৃষ্টি থাকতে হবে।
ফ্রেমওয়ার্ক
দৃষ্টিভঙ্গি কাঠামোবদ্ধ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হয়। তাই সকল কৌশলগত চিন্তাবিদরা
গভীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, তা বাস্তবায়নে
সঠিক কর্মপরিকল্পনা
করতে পারে। তারা সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের ছোট ছোট কর্ম পরিকল্পনা স্থির করে।
এই ছোট ছোট কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয় এবং তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর থাকে। তারা সব সময় সচেতন থাকে এবং নিজের কর্ম পরিকল্পনার মধ্যে থেকেই পরিস্থিতি ও দৃষ্টিভঙ্গি
পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। তারা কাজ করার সময় প্লান এ, বি, সি প্রস্তুত রাখে। যার ফলে ফলাফল সব সময় কাঙ্ক্ষিত হয়।
উপলব্ধি ক্ষমতা
কৌশলগত চিন্তাবিদদের
প্রখর উপলব্ধি ক্ষমতা থাকে। তারা শুধু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি
নয় বরং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিও বোঝার চেষ্টা করে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সম্ভাব্য সব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে এবং সবার জন্য উপযুক্ত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তারা মানুষের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং পছন্দের গুরুত্ব বোঝে। সাধারণের সাথে একাত্ম হয়ে সকল অর্জন আরো মহিমান্বিত করে তোলে। তারা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সকল সূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করে। যাতে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ নির্ধারন করা সহজ হয়। তারা বাতাসের গুঞ্জন এবং ছোট ছোট বিষয়ে খোঁজ রাখে। কেননা তারা জানে সকল বড় অর্জন আসলে ছোট ছোট অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টি।
তারা মানুষের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং পছন্দের গুরুত্ব বোঝে। সাধারণের সাথে একাত্ম হয়ে সকল অর্জন আরো মহিমান্বিত করে তোলে। তারা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সকল সূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করে। যাতে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ নির্ধারন করা সহজ হয়। তারা বাতাসের গুঞ্জন এবং ছোট ছোট বিষয়ে খোঁজ রাখে। কেননা তারা জানে সকল বড় অর্জন আসলে ছোট ছোট অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টি।
দৃঢ়তা
তারা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হয়। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন এবং সব কিছু অনুধাবন করার পর তারা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সাফল্য অর্জনের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে কখনো পিছুপা হয় না। বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করলেও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি
কখনো অস্পষ্ট হতে দেয় না। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সকল সম্ভাব্য উপায়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নিজের অবস্থানে সব সময় দৃঢ় থাকে।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তারা কার্যকরভাবে যোগাযোগ করে এবং অন্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্নের শিকার হলেও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরের মাধ্যমে সব পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখে সম্পূর্ণ চাপমুক্ত থাকতে পারে।
আস্থা এবং আত্মবিশ্বাসের এমন স্তরে তারা অবস্থান করে যে হাসি মুখে সকল প্রশংসা এবং সমালোচনা বুক পেতে গ্রহণ করতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়
তারা কখনোই অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হয় না, বরং সবার দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করে সন্তোষজনক উপায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
নমনীয়তা
কৌশলগত চিন্তাবিদরা
সবসময় তাদের দুর্বলতার ব্যাপারে সচেতন থাকে। তাই অন্যের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। তারা সবসময় নমনীয় এবং বিনয়ী আচরণ করে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করতে ভালো যেকোনো কিছু গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
তারা খেলার সকল নিয়ম মেনে চলে। কেননা তারা জানে নিয়ম ছাড়া কোনো ভালো খেলা হতে পারে না। অর্থাৎ যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে সকল নিয়ম-নীতি শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলে। কৌশলগত চিন্তাবিদরা
যৌক্তিক চিন্তার সন্ধান পেলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পিছুপা হয় না।
আসলে কৌশলগত চিন্তাবিদরা নেতা হিসাবে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে। একজন আত্মবিশ্বাসী নেতার সকল গুণাগুণ তার মধ্যে থাকে। অন্য মানুষকে মূল্যায়ন করা, অন্যের সাথে যোগাযোগ করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়
নেতৃত্ব দেওয়া, দল এবং কর্ম পরিচালনা করা, ও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে অনিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা করার ব্যাপারে তারা সব সময় সুবিবেচকের পরিচয় দেয়।
সুতরাং ভবিষ্যতের নেতা হতে চাইলে আপনাকেও এমন কৌশলগত চিন্তা করা শিখতে হবে। নিজের সকল মেধা, দর্শন এবং শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে সাফল্য অর্জনের সর্বোত্তম পন্থা আবিষ্কার করতে হবে। তাহলেই আসবে সুখ, সাফল্য ও সমৃদ্ধি। - অনলাইন


0 Comments